অধিক নিরাপত্তায় ভোটারদের মনে স্বস্তি

কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন (কুসিক) নির্বাচন নিয়ে ভোটারদের উৎসাহ কোটবাড়ীর জঙ্গি আস্তানার খবরে কিছুটা দমে গেলেও, অধিক নিরাপত্তা ভোটারদের মনে স্বস্তি এনে দিয়েছে। ওই এলাকায় জঙ্গি আস্তানার খবর পেয়ে বুধবার বিকেল থেকেই আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী বাড়িটি ঘিরে ফেলে। এতে ভোটারদের মধ্যে জঙ্গি আতঙ্ক দেখা দেয়। তবে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে শুরু হওয়া নির্বাচনের ভোটগ্রহণে ভোটারদের মধ্যে আতঙ্কের কোনো ছাপ লক্ষ্য করা যায়নি।

নির্বাচনকে ঘিরে ও জঙ্গি আস্তানার খবরে অধিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকায় ভোটারদের মনে স্বস্তি বিরাজ করছে। ফলে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা নিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন ভোটাররা। গত জাতীয় নির্বাচন ঠিকঠাক ভোট দিতে পারেননি এখানকার ভোটাররা।

পরের উপজেলা নির্বাচনে আতঙ্কে বের হননি ভোটাররা। এমনকি ইউনিয়ন পরিষদের ভোট নিয়েও সন্তুষ্ট ছিলেন না সাধারণ মানুষ। তবে এবার যেন দৃশ্যপট পাল্টে গেছে। কুসিক নির্বাচনে ভোটারদের দীর্ঘ লাইন কেন্দ্রের ভেতরে, ঠিক তেমনি কেন্দ্রের বাইরেও। এতে করে কুসিক নির্বাচনের পরিবেশ রীতিমতো উৎসবে রূপ নিয়েছে। নির্বাচন ঘিরে ব্যাপক নিরাপত্তা বলয়ই ভোটারদের মাঝে স্বস্তি দিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। সকাল থেকেই ভোটাররা কেন্দ্রে কেন্দ্রে ভিড় জমাতে থাকেন।

দুপুরে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তেমন কোনো বিশৃঙ্খলার খবর পাওয়া যায়নি। দু’একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া কেন্দ্র দখল, ব্যালট ছিনতাই, মারপিটের কোনো ঘটনারও খবর মেলেনি। নগরীর অশোকতলা কেন্দ্রে ভোট দিয়ে কেন্দ্রের খানিক দূরে দাঁড়িয়ে গল্প করছিলেন সবির হোসেন। তিনি বলেন, এবারের মতো নিরাপত্তা আগে কখনো দেখিনি। প্রশাসন ঠিক থাকলে সব ঠিক।

ভেতরের খবর বলতে পারব না, তবে আমার ভোট শান্তিমতো দিতে পেরেছি, তাতেই খুশি। পাশে দাঁড়িয়া থাকা জয়নাল মাতব্বর বলেন, বেশ ভালো লাগছে এবারের ভোটের পরিবেশ। প্রশাসন খুবই কড়া।

জঙ্গি নিয়ে আতঙ্ক ছিল। তবে নিরাপত্তার কারণেই মানুষ ভোট দিতে সাহস পাচ্ছে। নির্বাচন কমিশন সূত্র জানায়, নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে নগরীর ২৭টি ওয়ার্ডে প্রায় সাড়ে ৫ হাজার র‌্যাব, পুলিশ, বিজিবি, এপিবিএন ও আনসার সদস্য মাঠে রয়েছেন। ভোটের দুইদিন আগে থেকে নির্বাচনের পরদিন পর্যন্ত ৩৬ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং ৯ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটসহ ৪৫ জন ম্যাজিস্ট্রেট আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি তদারকি করবেন।

এ নির্বাচনকে অধিক গুরুত্ব দিতে পুলিশের ২ হাজার ৪৫৬ জন সদস্য, র‌্যাবের ৩৩৮ জন সদস্য, বিজিবির ২৭ প্লাটুনে ৬০০ জন সদস্য এবং কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের সঙ্গে প্রশিক্ষিত ব্যাটালিয়ন আনসারের ৫৩০ জন সদস্য ও আনসারের ১৪৪২ জনসহ ১৯৭২ জন সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। নির্বাচনকে ঘিরে কঠোর নিরাপত্তার ব্যবস্থার অংশ হিসেবে নির্বাচনী এলাকার প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে ২৪ জন করে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য নিয়োজিত রয়েছেন।

কুসিক নির্বাচনে ১০৩টি ভোটকেন্দ্রের সবগুলোকেই ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে কোতোয়ালি মডেল থানা এলাকায় ৭২টি কেন্দ্র এবং সদর দক্ষিণ মডেল থানা এলাকার ৩১টি কেন্দ্র রয়েছে। এসব কেন্দ্র গুরুত্বপূর্ণ চিহ্নিত করে প্রতিটি কেন্দ্রে ২৪ জন পুলিশ ও আনসার সদস্য এবং র‌্যাবের ৮ সদস্যের একটি দল দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়াও ঝুঁকিপূর্ণ ২টি করে কেন্দ্রতে র‌্যাব, পুলিশ, বিজিবি ও প্রশিক্ষিত ব্যাটালিয়ন আনসার ফোর্সের সদস্যদের পৃথক মোবাইল টিম নিয়োজিত রয়েছে।

ভোটকেন্দ্রে আসার পথে কোনো ভোটার যেন বাধার শিকার না হন এজন্য র‌্যাব ও পুলিশের মোবাইল টিম ওয়ার্ডগুলোতে টহলে রয়েছে। নির্বাচনী ২৭টি ওয়ার্ডে পুলিশের ২৪ ঘণ্টায় ২৭টি পেট্রোল টিম কাজ করছে। একটি টিমে ৬ জন করে পুলিশ নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছেন। এরআগে বুধবার দুপুর থেকে নগরীর বিভিন্ন স্থানে র্যাাবের ডগ স্কোয়াড ও বোমা ডিসপোজাল ইউনিটি বিভিন্ন যানবাহনে তল্লাশি চালানো শুরু করে।

কুমিল্লা র‌্যাব-১১ এর অধিনায়ক মেজর মোস্তফা কায়জার বলেন, নির্বাচনে বিজিবি, পুলিশ ও আনসারের সঙ্গে র‌্যাব সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। তারা মূলত স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে ভোটকেন্দ্রের বাইরে দায়িত্ব পালন করছেন। ভোটের পরিবেশ সুষ্ঠু রাখতে তল্লাশি চলছে। যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা ও নাশকতার চেষ্টা করা তা কঠোর হাতে দমন করা হবে। কুমিল্লার পুলিশ সুপার (এসপি) মো. শাহ আবিদ হোসেন জানান, কুমিল্লায় মডেল নির্বাচন হচ্ছে।

নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে কুসিক এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। এলাকায় র‌্যাব ও পুলিশের টহল এবং গাড়িতে তল্লাশি অব্যাহত রয়েছে।

নির্বাচন নিয়ে কুমিল্লার জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, এ নির্বাচনে ৩৬ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং ৯ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করছেন। এরমধ্যে ২৭ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নগরীর ২৭টি ওয়ার্ডে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার কাজে নিয়োজিত বাহিনীর সদস্যদের দিক-নির্দেশনা দেবেন।

Comments

comments