নোয়াখালীর গালাগালি ও কুমিল্লা বিদ্বেষী বক্তব্য

কুমিল্লা নাগরিক ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক কবীর চৌধুরী তন্ময়। ময়নামতি নাম প্রস্তাবের ৪দিন আগে বৃহত আকারে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে কুমিল্লা বিভাগ বাস্তবায়নের দাবিতে ২৫ ফেব্রুয়ারি মানববন্ধন করার উদ্দেশ্যে ফেসবুকে ইভেন্ট খুললে বেশ সাড়া পড়ে। স্যোশাল মিডিয়ার পাশাপাশি মুলধারার মিডিয়াও সেই সংবাদ পরিবেশন করে। আবার কুমিল্লা নামেই বিভাগ করার জন্য ‘বঙ্গবন্ধু কন্যার প্রতি কুমিল্লাবাসীর খোলা চিঠি’ নামক ২৩ ফেব্রুয়ারি  প্রধামন্ত্রীর কার্যালয়ে একটি চিঠিও পাঠান যা অনলাইন-জাতীয় দৈনিকেও প্রকাশিত হয়। কিন্তু ২৪ ফেব্রুয়ারি বিকাল ৩টায় নোয়াখালীকে বিভাগ করার দাবিতে আন্দোলনরত কিছু বক্তা কবীর চৌধুরী তন্ময়কে অযাচিতভাবে নাস্তিক ব্লগার নানান ধরনের অশ্লীল মন্তব্য করেন বলে তিঁনি শুনেছেন এবং নোয়াখালীবাসীর লিখিত প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে মিথ্যাচার ও কুমিল্লা বিদ্বেষী কিছু বক্তব্য তুলে ধরেন।

ফেসবুকে পোস্ট করা ছবি-স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলে-
১৯৯০ সালে শেখ হাসিনা কুমিল্লা রেলওয়ে স্টেশনে এক জনসভায় কুমিল্লা বিভাগ বাস্তবায়নের দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে বলেছিলেন, ক্ষমতায় গেলে কুমিল্লাকে বিভাগ হবে। তারও আগে কুমিল্লা গণদাবি পরিষদের ব্যানারে ১৯৬২ সালে কুমিল্লাকে বিভাগ ঘোষণার দাবি জানানো হয়।

দীর্ঘ সময়ে ওই দাবি পূরণ না হওয়ায় ১৯৮৯ সালে বৃহত্তর কুমিল্লা ও নোয়াখালীর ছয় জেলার অধিবাসীদের নিয়ে কুমিল্লা গণফোরামের ব্যানারে কুমিল্লা বিভাগ বাস্তবায়নের আন্দোলন শুরু হয়।

৪ মার্চ ২০১৫ খ্রি. বুধবার জাতীয় সংসদে জাতীয় পার্টির সাংসদ কাজী ফিরোজ রশীদের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বৃহত্তর ফরিদপুর, ময়মনসিংহ ও কুমিল্লাকে বিভাগ করা হবে।

আর কুমিল্লার গণমানুষের নেতা কুমিল্লা সদর আসনের সাংসদ বীর মুক্তিযোদ্ধা হাজী আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার সেই শুরু থেকেই শুধু কুমিল্লার মাটিতেই নয়, বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় কুমিল্লা বিভাগ বাস্তবায়নের কমিটিও করে দিয়েছে। ¯েøাগানে-¯েøাগানে রাজপথের পাশাপাশি সংসদেও কুমিল্লা বিভাগ বাস্তবায়নের দাবির প্রেক্ষিতে জোড়ালো বক্তব্য-বিবৃতি দিয়ে আসছে।

আর তাঁর সাথে এখন ঐক্যবদ্ধ হয়েছে কুমিল্লা নাগরিক ঐক্য পরিষদ, নতুন প্রজন্ম ও কুমিল্লার সর্বস্তরের জনগণ। আরও অনেক তথ্য দেওয়া যাবে কিন্তু আমাদের পক্ষে গালি দেওয়া সম্ভব নয়। তাই কুমিল্লাবাসী হঠাৎ করেই কুমিল্লা বিভাগ বাস্তবায়নের দাবি নিয়ে মাঠে নামেনি।

২৫ ফেব্রæয়ারি শনিবার কুমিল্লা নাগরিক ঐক্য পরিষদ জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করে দ্রæত কুমিল্লা বিভাগ বাস্তবায়নের দাবিতে ফেসবুকে ইভেন্ট খুলে এবং সেই ইভেন্টের খবর গুরুত্বপূর্ণ অনলাইন ও জাতীয় দৈনিকগুলোতেও প্রচার-প্রকাশ করার ২/৩ দিনের মধ্যেই হঠাৎ ময়নামতি নামে কুমিল্লার পূর্ব নির্ধারিত বিভাগ করার ঘোষণা দিলে ক্ষোভে, অভিমানে আবারও উত্তাল হয়ে ওঠে স্যোশাল মিডিয়া ও কুমিল্লাসহ বাংলাদেশ এবং দেশের বাইরে বসবাস করা কুমিল্লার জনগণ।

কুমিল্লা জনগণ ছাড়াও দেশের সুশীল সমাজ, বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিক সাহিত্যিকসহ দেশের বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ নাম পরিবর্তনের অপসংস্কৃতির বিরুদ্ধে মতামত দেন। কুমিল্লাবাসীর মতন দেশের বিজ্ঞ মহলও কিন্তু তখন নোয়াখালীকে বিভাগ করা যাবে না, নোয়াখালীতে গান্ধীজীর ছাগল চুরি হয়েছে, মালাউন শব্দটির মাধ্যমে সা¤প্রদায়িক মনোবৃত্তি নোয়াখালীবাসীর মধ্যে বিদ্যমান; এই ধরনের উদ্ভট কথা কখনও বলেনি। ভবিষ্যতেও বলার মানসিকতা নেই।

দুঃখজন হলো, ২৪ ফেব্রæয়ারি জাতীয় প্রেসক্লাবে বিকাল ৩টায় নোয়াখালী বিভাগ বাস্তবায়নের দাবিতে মানববন্ধন থেকে মাইকে আমাকে নাস্তিক বøগার বলে কিছু মানুষ বক্তব্য দিয়েছে তা আমি নিজেই শুনেছি। কুমিল্লার বিরুদ্ধে যাচ্ছে-তাই বক্তব্য দিয়েছে। প্রেসক্লাবের পাশেই আমার ব্যক্তিগত অফিস। বিকাল ৩টায় বেশিরভাগ সময় অন্যান্য শব্দ কম হওয়া তাঁদের ব্যবহৃত মাইকের আওয়াজ স্পষ্টই কানে শোনা গিয়েছে।

আবার লিখিত প্রেসবিজ্ঞপ্তিতেও শেষের প্যারায় লিখেছে- যেহেতু রাজধানী ঢাকা থেকে কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার দূরত্ব মাত্র ৪০ কিলোমিটার ও কুমিল্লা জেলা সদরের দূরত্ব মাত্র ৮০ কিলোমিটার এবং ফোর লেন সড়কে ঢাকা হতে কুমিল্লায় যেতে সময় লাগে মাত্র এক ঘন্টা, সেহেতু রাজধানী ঢাকার এত কাছের জেলা কুমিল্লাকে বিভাগ করার কোন যুক্তি নেই বলে প্রশাসন বিষয়ে বিশেষজ্ঞগণ মনে করেন। আর কুমিল্লা শহরটি মূলত ভৌগলিক ভাবে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের একেবারেই কাছাকাছি অর্থাৎ কুমিল্লা জেলা সদর হতে পূর্ব দিকে মাত্র ছয় কিলোমিটার দূরে কটকবাজারের পাশে ভারত সীমান্ত তথা সোনামুড়া বাজার অবস্থিত, তাই ভৌগলিক কারণেই কুমিল্লাকে বিভাগ করা যায় না বলে সুধীজন মনে করেন।

নোয়াখালীবাসীর এই ধরনের মিথ্যাচার, কুমিল্লা বিদ্বেষী ও ভারত বিরোধী মনোভাব এবং ব্যক্তিগতভাবে আমাকে আক্রমন করে তাঁদের বক্তব্য শুনে আমি ব্যক্তিগত ভাবে সত্যিই মর্মাহত এবং লজ্জাবোধ করছি। আমরা কুমিল্লার জন্য আপনারা নোয়াখালীর জন্য তথ্য-উপাত্ত দিয়ে বিভাগ দাবি করতে পারেন কিন্তু কুমিল্লার বিরুদ্ধে অশ্লীল ও নোংরা বক্তব্য কিসের ইঙ্গিত বহন করে আমার চিন্তার বাইরে।

সর্বপ্রথম আমাদের পরিচয় আমরা মানুষ। আমরা বাঙালি ও বাংলাদেশি। কিন্তু এখানে কতটুকু মনুষ্যত্ব আর বাঙালি বিদ্যমান সেই প্রশ্ন আপনাদের কাছে….

উল্লেখ্য, কুমিল্লা ও নোয়াখালী বিভাগ বাস্তবায়নের দাবি নিয়ে কুমিল্লার পাশাপাশি নোয়াখালীও বিভাগ দাবি করছে এবং নোয়াখালীবাসীও বিভিন্ন সময় বিভিন্ন জায়গায় বক্তব্য-বিবৃতি দিয়ে যাচ্ছে। আবার স্যোশাল মিডিয়াতেও পাল্টাপাল্টি যুক্তি উপস্থাপন করতে দেখা যায়।

কবীর চৌধুরী তন্ময়
আহ্বায়ক, কুমিল্লা নাগরিক ঐক্য পরিষদ
মোবাইল : ০১৭১১০৭৫১৮৭

Comments

comments