এই বুঝি এল হেমন্তঃ মুনশি আলিম

Hemontoকার্তিকের ঝকঝকে আকাশই বলে দেয় হেমন্ত দুয়ারে আজ। ঋতুর পালাবদলে এখন প্রকৃতিতে হাজির হয়েছে নতুন করে, নতুন সাজে। ভালবাসার আগে যেমন ভাললাগা তেমনি শীতের আগে শীতের আবেশ ছড়ানোর বার্তা নিয়ে আসে হেমন্ত। এই সময়ে প্রকৃতিতে প্রগাঢ় সবুজ যেমন পাওয়া যায়, তেমনি পাওয়া যায় শীতের মিষ্টি আমেজও।

গ্রীষ্মের মাটি ফাটানো দাবদাহ নেই, বর্ষার অঝোর ধারায় ভিজে যাওয়া বা কাঁদা নেই, হাড় কাঁপানো শীত যে মাসে নেই তারই নাম কার্তিক। পেঁজা তুলার মতো ছন্নছাড়া মেঘমালা বিদায় নিয়েছে, প্রকৃতিকে নতুনের বার্তা দিয়ে হেসে ওঠেছে হেমন্তের আকাশ। প্রকৃতির কোলজুড়ে স্নিগ্ধতার পরশ, বাতাসে হিম হিম গন্ধ। হেমন্তে দেখা যায় অখ- নীল আকাশ। মিষ্টি সোনা রোদ বলতে যা বুঝায় তা দেখা যায় এই হেমন্তেই।


 হেমন্ত শরৎ থেকে সে খুব পৃথক নয়, শীত থেকেও তেমন বিচ্ছিন্ন নয় তার প্রকৃতি। হেমন্তের শিশির ভেজা ঘাসের ডগা যেন মুক্তার মেলা। সকালে বা সন্ধায় অদৃশ্য আকারে ঝরে আকাশ থেকে। উৎসুক দৃষ্টিতে ভোরের চেহারা আলাদা করে ঠাহর করা যায়। প্রকৃতির নির্যাসে মাটির কাছাকাছি আলতো কুয়াশা জমে, কুয়াশার স্মৃতি রোমন্থন করে ঘাসের ডগায় বুঝি বা মুক্তোর দানার মতো শিশিরেরা অস্থায়ী নিবাস গড়ে।


ভোরের কাঁচা রোদ, মৃদু হিমস্পরশ প্রাণে শিহরণ জাগায়। বাংলাদেশে হেমন্ত আসে ধীর পদক্ষেপে, লাজ নম্র বধূর মত ক¤িপত পদক্ষেপে। শীতের পরশ আলতো করে গায়ে মাখে। কার্তিক হচ্ছে, দুই ঋতুর মোহনা। হঠাৎ বৃষ্টিতে ভিজে যাওয়া নেই, সারাদিন থমথমে গুমোট মেঘলা আকাশ নেই, গ্রীষ্মের গরম নেই, শীতের কনকনে ঠা-ার সমস্যাও নেই। উচ্ছ্বল শরতের বিগত-যৌবনা কাশফুল অপরূপ হেমন্তে শান্ত-সমাহিত রূপ লাভ করে। মাঠ-ঘাট শুকোতে থাকে, অনাগত শীতের প্রস্তুতি নেয় প্রকৃতি।

এ সময় প্রকৃতি যেন নিজেকে মেলে ধরে শ্রেষ্ঠ সাজে। অতিথি পাখিরা গ্রামবাংলার আতিথেয়তা গ্রহণের উদ্দেশে নোঙর ফেলে অগ্রহায়ণের শেষে। প্রকৃতি তখন ক্রমশই মুখর হয়ে ওঠে পরিযায়ী পাখিদের কলকাকলীতে। নতুন ধানের মৌ মৌ গন্ধে মাতোয়ারা কৃষক। ফসল তোলা শেষ হতেই নবান্নের উৎসবে মেতে ওঠে গাঁয়ের গৃহবধূ। এই উৎসবের মধ্য দিয়ে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে গ্রামবাসী তাদের স্বতঃস্ফূর্ত অন্তরঙ্গতাকে আরও একবার নবায়ন করে নেয় নতুন করে।

 

Comments

comments