প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ কুমিল্লা বিভাগের নাম ‘কুমিল্লা’ই করা হউক – এমপি বাহাউদ্দিন বাহার

কুমিল্লা সদর আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার গতকাল কুমিল্লা কাবে সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে আশা প্রকাশ করেছেন কুমিল্লা বিভাগের নাম কুমিল্লা বিভাগই করা হবে।

কুমিল্লা টাউন হলে জাতীয় অন্ধকল্যাণ সমিতি কুমিল্লা শাখা আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেয়ার পর কুমিল্লা কাবে উপস্থিত সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে তিনি তাঁর বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে বলেন, ‘আমি আবারও অনুরোধ করবো আমাদের প্রিয় নেত্রীকে আপনাদের মাধ্যমে কুমিল্লা বিভাগের নাম কুমিল্লা বিভাগই করা হউক।’

কুমিল্লা সদর আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য দেয়াকালে প্রথম পর্যায়ে বলেন, ‘১৯৮৪ সালে আমি যখন কুমিল্লা পৌরসভার প্রথম চেয়ারম্যান নির্বাচিত হই, সেই সময় কুমিল্লার সকল রাজনৈতিক নেতা, সুশীল সমাজ, পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ মিলে আমরা কুমিল্লা বিভাগ আন্দোলন শুরু করি।

সে-সময় আমি বিভাগীয় আন্দোলন কমিটির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করি। আমরা তখনও ব্যাপক আন্দোলন করেছি। কুমিল্লার মানুষের দুর্ভাগ্য যে, আমরা আন্দোলন শুরু করি ১৯৮৮ সালে, এর মধ্যে বাংলাদেশে অনেক বিভাগ সৃষ্টি হয়েছে। আন্দোলন করেছি আমরা, বিভাগ হয়েছে রংপুরে। আন্দোলন করেছি আমরা, বিভাগ হয়েছে সিলেটে।

আন্দোলন করেছি আমরা, বিভাগ হয়েছে ময়মনসিংহে। আন্দোলন করেছি আমরা, বিভাগ হয়েছে বরিশালে এটা কুমিল্লার মানুষের দুর্ভাগ্যের বিষয়। যখন আমাকে কুমিল্লার মানুষ ভোট দিয়ে জাতীয় সংসদে কথা বলার সুযোগ করে দিয়েছে ২০০৮ সালে, প্রথমেই আমি কুমিল্লার মানুষের পক্ষে সেই সময় কুমিল্লা বিভাগের দাবি উত্থাপন করি জাতীয় সংসদে। ২০০৮ সালে প্রথমেই আমি কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজকে পুর্নাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, দীর্ঘদিনের সমস্যা আমাদের শাসনগাছা ফাইওভার ও কুমিল্লা বিভাগের দাবি উত্থাপন করেছিলাম।

আরেকটি দাবি উত্থাপন করেছিলাম কোটা প্রথা বাতিলের। ইতিমধ্যে আমাদের শাসনগাছা ফাইওভার কার্যক্রম সম্পন্ন হয়ে আসছে। আমি যখনই পার্লামেন্টে কথা বলার সুযোগ পেয়েছি তখনই কুমিল্লা বিভাগের দাবি উত্থাপন করেছি।

গতবছর আমাদের জাতির জনক বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা কুমিল্লাতে নজরুল জয়ন্তী উদযাপন করতে আসেন। কুমিল্লার দুর্ভাগ্য, নেতৃত্বের দুর্ভাগ্য। কুমিল্লার সম্পর্কে বাংলাদেশি যারা প্রবাসী জীবনে তারা কুমিল্লার ‘কু’কে চিনেন। কুমিল্লাকে চিনে না আসলে। আমাদের এখানে কাজী নজরুল ইসলাম শ্রেষ্ঠ সময় কাটিয়েছেন। আমি জাতীয় সংসদের সদস্য হওয়ার পরে নজরুলের জাতীয় অনুষ্ঠান কুমিল্লায় আনার অনেক চেষ্টার পরে গত বছর সক্ষম হয়েছি। এখানে আমি আবারও কুমিল্লা বিভাগের দাবি উত্থাপন করেছিলাম

কুমিল্লার মানুষের পক্ষে। আমাদের প্রিয় নেত্রী, জননেত্রী শেখ হাসিনা কুমিল্লার হাজার মানুষের সামনে বলেছিলেন যে, কুমিল্লা বিভাগ হবে। কিন্তু পরবর্তী সময়ে এ কার্যক্রম আবারও থেমে যায়। আমি এইবার জাতীয় সংসদে বক্তব্য দিই দু’প্রশ্নে আমি উত্তর দিই। একটি হচ্ছে বিভাগ ও আরেকটি হচ্ছে আমাদের কোটা প্রথা উচ্ছেদ।

আজকে আমি কোটা প্রথা উচ্ছেদের পক্ষে বক্তব্য দিচ্ছি। আমরা ৪১সালের বাংলাদেশ বিনির্মাণ করতে চাই। জ্ঞাননির্ভর বাংলাদেশ গড়তে চাই। আমরা চাই বিশ্বের ২৩টি দেশের মধ্যে অর্ন্তভুক্ত হতে। আমাদের তো প্রজন্মের সন্তানদের ওইভাবে তৈরি করতে হবে। এখনও যদি কোটা প্রথাই আমাদের সমস্যা হয় কোটা তো কখনই মেধার বিকল্প হতে পারে না।

একটি মেধাবী জাতি জাতিকে সামনে দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে।’ কোটা প্রথা উচ্ছেদ প্রসঙ্গে এম পি বাহার আরও বলেন, ‘আমি জাতীয় সংসদে বলেছি, আজকেও আপনাদের সামনে বলছি, কোটা প্রথা উচ্ছেদ করা হোক।

একমাত্র মুক্তিযোদ্ধার কোটা ছাড়া সকল কোটা উচ্ছেদ করা হোক। জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান মুক্তিযোদ্ধারা। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের বিকৃতি এখনও চলছে। পাকিস্তান কিছুদিন আগেও একটি বই ছাপিয়েছে আমাদের ইতিহাস বিকৃতি করে। তাই মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে আমাদের ধারণ করতে হবে, লালন করতে হবে। এজন্য মুক্তিযোদ্ধা কোটা কখনও উচ্ছেদ করা হবে না।

বাকি সকল কোটা উচ্ছেদ করা হোক। মেধাবী সন্তানদের দিয়ে বাংলাদেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবো।’ কুমিল্লা বিভাগ প্রসঙ্গে এম পি বাহার আরও বলেন,“আর কুমিল্লা বিভাগের যে বিষয় আসলে আমার মনে হয়, আমাদের জননেত্রী শেখ হাসিনার কাছে পুরা বিষয়টি সুস্পষ্টভাবে কেউ বলতে পারেন নি। ‘ময়নামতি’ আমাদের কুমিল্লার ১৮৫ টি ইউনিয়নের মধ্যে একটি ইউনিয়নের নাম।

একটি ইউনিয়নের নামে একটি বিভাগের নাম হয় কিভাবে? এ পর্যন্ত যত বিভাগ ঘোষণা করা হয়েছে দু’একটি বিভাগ ছাড়া আমরা দেখেছি, যে সমস্ত বিভাগকে অর্ন্তভুক্ত করা হয়েছে সকল জেলাকে হয় কোনো না কোনো জেলায় অর্ন্তভুক্ত হতে হয়েছে। কুমিল্লা জেলা আজকে বিভাগ হওয়ার জন্যে যদি কোন জেলা অপজ করে অপজ তো আগেও হয়েছে। এজন্য তো বিভাগের নাম পরিবর্তন হয়নি।

আমার বিশ্বাস, কুমিল্লা বিভাগের নাম কুমিল্লা বিভাগই আমরা নামকরণ করবো। আমার নেত্রী এটা মেনে নিবেন মনে হয়। এম পি বাহার বলেন, ‘আজকে কুমিল্লাসহ সারা বাংলাদেশে কুমিল্লার মানুষ ঢাকা থেকে আরম্ভ করে, এমনকি আজকে আমরা রেমিটেন্সে এক নম্বর বিশ্বে, যদি ৫০ থেকে ৬০ লাখ লোক বাইরে থাকে ১০ লক্ষ লোক কুমিল্লার। সকল কুমিল্লার লোক পৃথিবীর অন্য দেশ থেকে এটির প্রতিবাদ করছে।

আমার জানা মতে, জার্মানীতে একটি অনুষ্ঠানে নেত্রীর সামনে কুমিল্লার একটি ছেলে সানাউল নেত্রীকে বলেছে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ‘আমি কুমিল্লার সন্তান। আপনি কুমিল্লা বিভাগের নাম কুমিল্লা না করে ময়নামতি কেন করছেন?” সংসদ সদস্য আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার বলেন, “নেত্রীর কাছে টোটাল বিষয়টা আমার মনে হয় আমরা যদি তুলে ধরতে পারি, সেখানে সমস্যা হওয়ার কথা না।

নেত্রী সেদিন নাকি বলেছেন, ‘মোস্তাকের বাড়ি কুমিল্লায়।’ এম পি বাহার বলেন, ‘আমরা যদি ময়নামতি বিভাগ করি, সেখানেও তো ইতিহাস লিখলে লিখতে হবে ময়নামতি বিভাগের কুমিল্লা জেলার মোস্তাকের বাড়ি কুমিল্লায়। মোস্তাক বঙ্গবন্ধুর খুনী হিসেবে শুধু শেখ হাসিনার ঘৃণা না, আমাদেরও ঘৃণা। মোস্তাক প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর ১০ হাজার পুলিশ নিয়েও কুমিল্লা টাউনহলে মিটিং করতে পারেনি।

আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার সে মিটিং করতে দেয় নি। কুমিল্লায় মোস্তাকের যেমন বাড়ি তেমনি ধীরেন্দ্র নাথ দত্তেরও বাড়ি, কুমিল্লায় শচীন দেব বর্মনের বাড়ি, কুমিল্লায় আলাউদ্দিন খানের বাড়ি, আয়েত আলী খানের বাড়ি। কুমিল্লাতে নজরুল তাঁর জীবনের শ্রেষ্ঠ সময় কাটিয়েছেন।

একজন মোস্তাককে দিয়ে তো কুমিল্লার পরিচিতি নয় আসলে। মোস্তাককে নেত্রী যেমন ঘৃণা করেন তারচেয়ে বেশি আমরা ঘৃণা করি। তাই আজকে বলতে চাই, এক মোস্তাকের কারণে আমাদের কুমিল্লা বিভাগের নাম অন্য জায়গায় যাওয়ার সুযোগ নেই। আমি আবারও অনুরোধ করবো আমাদের প্রিয় নেত্রীকে আপনাদের মাধ্যমে কুমিল্লা বিভাগের নাম কুমিল্লা বিভাগই হোক।’

Comments

comments