ঐতিহাসিক বেতিয়ারা শহীদ দিবস পালিত

comiunist-partyমুক্তিযুদ্ধের ৪৩ বছর পরও স্বাধীনতা বিরোধী চক্র সোচ্চার রয়েছে, বিদেশী- সা¤্রাজ্যবাদী চক্র এবং দেশের ভেতরে ঘাপটি মেরে থাকা স্বাধীনতা বিরোধীরা দেশটাকে পাকিস্তান বানানোর চক্রান্ত চালাচ্ছে। যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষায় ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করতে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণকারি সকলকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। দেশ স্বাধীন হলেও দেশে সত্যিকারের গণতন্ত্র আজও প্রতিষ্ঠা হয়নি। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন না হলে শহীদদের আত্মা শান্তি পাবে না।

মঙ্গলবার চৌদ্দগ্রামে ঐতিহাসিক বেতিয়ারা শহীদ দিবস পালন উপলক্ষ্যে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ‘বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি কেন্দ্রীয় কমিটির উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য, সাবেক সভাপতি, মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ‘ন্যাপ-কমিউনিস্ট পার্টি-ছাত্র ইউনিয়ন বিশেষ গেরিলা বাহিনীর কমান্ডার বীর গেরিলা মুক্তিযোদ্ধা, প্রখ্যাত শ্রমিক নেতা কমরেড মঞ্জুরুল আহসান খান ওই বক্তব্য তুলে ধরেন।

কমরেড মঞ্জু আরো বলেন, আমরা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ নেই। স্বাধীনতা যুদ্ধে বাংলাদেশ কমিউনিষ্ট পার্টির অবদানকে বর্তমান আ’লীগ সরকার খাটো চোখে দেখছেন। বর্তমান আওয়ামী লীগ বঙ্গবন্ধুর অসাম্প্রদায়িক ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা থেকে সড়ে গেছে।

তিনি জাতির এ ক্রান্তিকালে মুক্তিযুদ্ধ ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা মনে- প্রাণে ধারন করে এবং ৭২’র সংবিধান পূণঃ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের ধারায় দেশকে অগ্রসর করতে বাম-গণতান্ত্রিক বিকল্প শক্তি গড়ে তোলার আহবান জানান।


দিবসটি উদযাপন উপলক্ষে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, বাংলাদেশ যুব ইউনিয়ন, উদীচী শিল্পী গোষ্ঠী, ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র, মহিলা সেল, ক্ষেতমজুর সমিতি, কৃষক সমিতি, খেলাঘর, শিক্ষক সমিতি, শহীদ পরিবার, বিভিন্ন সামাজিক ও গণসংগঠন, রাজনৈতিক দল, ‘ন্যাপ-কমিউনিস্ট পার্টি-ছাত্র ইউনিয়ন’র উদ্যোগে গঠিত ‘বিশেষ গেরিলা বাহিনী’সহ সর্বস্তরের মানুষ শ্রদ্ধা ভরে শহীদদের স্মরন করেন এবং দিনের কর্মসূচী হিসেবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, শহীদদের গণকবরের বেদী মূলে পুষ্পস্তক অর্পণ, সহযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের পরিচিতি, কেন্দ্রীয়, জেলা ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দের স্মৃতিচারণমূলক আলোচনা সভা করা হয়েছে।


১৯৭১ সালের এই দিনে ঢাকা-চট্রগ্রাম মহা সড়কের কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার জগন্নাথদিঘী ইউনিয়ন’র বেতিয়ারায় পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সঙ্গে সম্মুখযুদ্ধে ‘ন্যাপ-কমিউনিস্ট পার্টি-ছাত্র ইউনিয়ন’র উদ্যোগে গঠিত ‘বিশেষ গেরিলা বাহিনী’র সদস্য বীর গেরিলা মুক্তিযোদ্ধা মো. সিরাজুম মুনীর জাহাঙ্গীর, বশিরুল ইসলাম মাস্টার, নিজাম উদ্দিন আজাদ, শহীদুল্লাহ সাউদ, আওলাদ হোসেন, দুদু মিয়া, আবদুল কাইয়ুম, আবদুল কাদের ও মোহাম্মদ শফিউল্লাহসহ নয়জন তরুণ গেরিলা মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন।


 বেতিয়ারা শহীদ স্মৃতি রক্ষা পরিষদের সভাপতি বীর গেরিলা মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউল হোসেন জিবুর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ‘বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি কেন্দ্রীয় কমিটির উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য, সাবেক সভাপতি মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ‘ন্যাপ-কমিউনিস্ট পার্টি-ছাত্র ইউনিয়ন বিশেষ গেরিলা বাহিনীর কমান্ডার বীর গেরিলা মুক্তিযোদ্ধা প্রখ্যাত শ্রমিক নেতা কমরেড মঞ্জুরুল আহসান খান।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, ‘বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি’ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মন্ডলীর সদস্য, মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ‘ন্যাপ-কমিউনিস্ট পার্টি-ছাত্র ইউনিয়ন বিশেষ গেরিলা বাহিনীর পূর্বাঞ্চল কমান্ডার বীর গেরিলা মুক্তিযোদ্ধা কমরেড শাহআলম, ‘ঐক্য ন্যাপ কেন্দ্রীয় কমিটি’র সভাপতি বীর গেরিলা মুক্তিযোদ্ধা পঙ্কজ ভট্টাচার্য, বিশেষ গেরিলা বাহিনীর বৃহত্তর কুমিল্লা জেলা কমান্ডার এবং বর্তমান কুমিল্লা জেলা পরিষদের প্রশাসক ওমর ফারুক, ন্যাপ কেন্দ্রীয় কমিটির প্রেসিডিয়াম সদস্য মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ন্যাপ- কমউনিস্ট পার্টি- ছাত্র ইউনিয়ন’র বিশেষ গেরিলাবাহিনীর কুমিল্লা জেলা কমান্ডার বীর গেরিলা মুক্তিযোদ্ধা জাকির হোসেন, ‘ঐক্য ন্যাপ কেন্দ্রীয় কমিটি’র সহ-সাধারন সম্পাদক আলিজা হাসান, ‘ঐক্য ন্যাপ কেন্দ্রীয় কমিটি’র সাংগঠনিক সাধারন সম্পাদক ডাঃ শাহাদাত হোসেন, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারন সম্পাদক গণজাগরণ মঞ্চের সংগঠক অগ্নিকণ্যা লাকী আক্তার, বাংলাদেশ‬ ছাত্র ইউনিয়ন কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক গণজাগরণ মঞ্চের সংগঠক জিলানী শুভ, ‘ঐক্য ন্যাপ’র কুমিল্লা জেলা কমিটির সভাপতি ও ‘ন্যাপ-কমিউনিস্ট পার্টি-ছাত্র ইউনিয়ন বিশেষ গেরিলা বাহিনী কুমিল্লা উদযাপন কমিটির কো-চেয়ারম্যান বীর গেরিলা মুক্তিযোদ্ধা হুমায়ুন কবির মজুমদার, ‘বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি’ নারায়নগঞ্জ জেলা কমিটির সাধারন সম্পাদক কমরেড শীবনারায়ন চক্রবর্তী ‘বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি’ কুমিল্লা জেলা কমিটির সাধারন সম্পাদক ও ‘ন্যাপ-কমিউনিস্ট পার্টি-ছাত্র ইউনিয়ন বিশেষ গেরিলা বাহিনী কুমিল্লা উদযাপন কমিটির যুগ্ম আহবায়ক কমরেড পরেশ কর, ‘ন্যাপ’ কুমিল্লা জেলা কমিটির সভাপতি বীর গেরিলা মুক্তিযোদ্ধা আবু তালেব, খেলাঘর কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোখলেছুর রহমান রানা, সিপিবির কেন্দ্রীয় নেতা শহীদ উদ্দিন বাবুল, গণতান্ত্রিক পার্টিও প্রেসিডিয়াম সদস্য মাহবুবুর রহমান বাবু, বাংলাদেশ কৃষক সমিতি কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও কুমিল্লা জেলা সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা সুজাত আলী, বাংলাদেশ কৃষক সমিতি চট্টগ্রাম জেলার সভাপতি পুলক দাশ, বাংলাদেশ ক্ষেত মজুর সমিতির কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ডাঃ মীর খলিলুর রহমান বাঙ্গালী, চট্টগ্রাম জেলা ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি শিমুল কান্তি, গেরিলা কমান্ডার ও ডাকসুর সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুর রহমান, বাংলাদেশ যুব ইউনিয়ন কুমিল্লা জেলা সভাপতি একে এম মিজানুর রহমান কাউছার, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন কুমিল্লা জেলা কমিটির আহবায়ক কিংকর চন্দ্র চন্দ, ইছাক পাটোয়ারী, সহযোদ্ধা মির্জা আবুল হাশেম, আলাউদ্দিন, এডভোকেট নেয়ামত উল্যাহ, এডভোকেট সরোয়ারে দ্বীন, রতন লাল সাহা, মানিক লাল দাশ, জগন্নাথদীঘি ইউনিয়নের মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার সোলেমান মজুমদার, আবদুল মমিন ওস্তাদ প্রমুখ।

Comments

comments