ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের বাংলাদেশ প্রসঙ্গে বক্তব্যে খোদ ভারতেই বিতর্ক

ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের বাংলাদেশ প্রসঙ্গে  বক্তব্যকে কেন্দ্র করে খোদ ভারতেই তীব্র বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে। বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছেন কূটনীতিক, সাংবাদিকসহ সরকারের পদস্থ কর্মকর্তারা। দেশটির সাবেক কূটনীতিক দেব মুখার্জী মনমোহনের এ বক্তব্যকে দুঃখজনক ও ভিত্তিহীন বলেই মন্তব্য করেছেন। এসব বক্তব্যের পর প্রধানমন্ত্রীর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত দেশটির প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য থেকে বাংলাদেশের বিতর্কিত অংশটুকু প্রত্যাহার করা হয়। একইসঙ্গে চলমান এ বিতর্ক এড়াতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মনমোহনের এ মন্তব্য উদ্দেশ্যমূলক নয় বলে বিবৃতি দিয়েছে। শনিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এ বিবৃতিতে মনমোহনের ওই মন্তব্যের একটি ব্যাখ্যা দেয়া হয়েছে। নয়াদিল্লিতে সিনিয়র সম্পাদকদের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশ প্রসঙ্গে দেয়া মন্তব্য উদ্দেশ্যপ্রণোদিত নয় বলে মন্তব্য করে ওই বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী, তার সরকার ও জনগণের আন্তরিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে এবং অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গেই আমরা এ সুসম্পর্ক বজায় রাখব।
বিবৃতিতে আরো বলা হয়, বাংলাদেশে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারের স্থিতিশীলতার প্রতি ভারতের স্বীকৃতি রয়েছে। স্বাধীন সার্বভৌম এ রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার প্রতি ভারত অঙ্গীকারাবদ্ধ বলেও ওই বিবৃতিতে জানানো হয়।
প্রসঙ্গত, গত ২৯ জুন নয়াদিল্লিতে প্রিন্ট মিডিয়ার সম্পাদকদের সঙ্গে এক বৈঠকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং বলেন, বাংলাদেশের অন্তত ২৫ শতাংশ লোক প্রচণ্ড ভারত বিদ্বেষী। এরা জামায়াতে ইসলামীকে সমর্থন করে। এছাড়া বাংলাদেশের রাজনীতিতে যেকোনো সময় বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটবে বলেও তিনি ওই বৈঠকে মন্তব্য করেন। মনমোহনের ওই বক্তব্যে উভয় দেশেই তীব্র বিতর্কের সূত্রপাত হয়। বিতর্কের মুখে অবশেষে আজ শনিবার ভারতের প্রধানমন্ত্রীর ওয়েবসাইট থেকে ওই বক্তব্যের বাংলাদেশ প্রসঙ্গে বিতর্কিত অংশটুকু প্রত্যাহার করে নেয়া হয়।


কুমিল্লার খবর.কম, ০৩-০৭-২০১১

Comments

comments