অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে মেঘনায় বিনোদপুর বিলীন হতে চলছে

meghna-newsইজারা ছাড়াই সরকারদলীয় প্রভাব খাটিয়ে রাতের আঁধারে কুমিল্লার মেঘনা উপজলোর নদীর তীরবর্তী অবহেলিত চরাঞ্চল চর বিনোদপুর ও বিনোদপুরের এলাকায় বালু সন্ত্রাসীরা বালু উত্তোলন করছে। বালু উত্তোলনের ফলে চর বিনোদপু মেঘনার ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করছে।

২৫ থেকে ৩০টি শক্তিশালী ড্রেজার দিয়ে নদী তীরবর্তী স্থান ও কৃষিজমি থেকে এ বালু উত্তোলনের ফলে বিনোদপুর সহ ছয়টি গ্রাম এখন হুমকির মুখে রয়েছে। ভাঙনে ছয় গ্রামের সাধারণ লোকদের জীবন-জীবিকার একমাত্র অবলম্বন চাষাবাদের শত শত বিঘা জমি ও বাড়িঘর নদীতে বিলীন হয়ে যাচ্ছে।

নতুন করে ভাঙনের কবলে পড়েছে আরো বাড়িঘর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কয়েক শ’ বিঘা আবাদি জমি। বালু উত্তোলনকারীদের রাজনৈতিক দাপটে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন মেঘনার তীরবর্তী ছয় গ্রামের মানুষ। মেঘনা নদীর বালুমহালে উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকায় তা প্রশাসন ইজারা দিচ্ছে না।

কিন্তু নিষেধাজ্ঞা থাকার পরও এ এলাকা থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে নিয়ে যাচ্ছে বালু সন্ত্রাসীরা। এদিকে গতকাল শুক্রবার নদীর তলদেশের মাটি সরে গিয়ে চর বিনোদপুর গ্রামের ৫০টি পরিবারের ঘরবাড়ি ও কৃষিজমি নদীতে বিলীন হয়ে যাচ্ছে।

বালু সন্ত্রাসীদের অবৈধ বালু উত্তোলনে বাধা দিতে গিয়ে একাধিকবার মামলা ও হামলার শিকার হয়েছেন এলাকার কয়েক শ’ সাধারণ মানুষ। মেঘনা উপজেলা এ দুর্গম এলাকায় শত শত মানুষের মধ্যে তাই চরম হতাশা।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, সরকারদলীয় পরিচয়ে প্রভাবশালী বালু উত্তোলনকারীদের একটি সিন্ডিকেট মেঘনা তীরবর্তী গোবিন্দপুর ইউনিয়নের চর রিনোদপুর, রিনোদপুর , আলিপুর, গ্রাম ঘেঁষে রাতের আঁধারে ফসলি জমির মাটি কেটে নিচ্ছে।

এক দিকে বালু উত্তোলন হচ্ছে অন্য দিকে শত শত বিঘা ফসলি জমি ও বাড়িঘর মেঘনার ভাঙনে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। প্রশাসনের দফতরে একাধিকবার অভিযোগ করলেও কোনো সুরাহা হয়নি।

এলাকাবাসী আরো অভিযোগ করেন, দাউদকান্দি সদর উত্তর ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতি আলআমিন সহ ক্ষমতাসীন দলের অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী এ বালু সন্ত্রাসের সাথে জড়িত। তারা প্রভাবশালী হওয়ায় ভয়ে প্রতিবাদ করতে সাহস পাচ্ছে না ভুক্তভোগী গ্রামবাসী। প্রতিবাদ করার জের ধরে ইতোমধ্যে অনেক গ্রামবাসীকে বালু সন্ত্রাসীরা মামলা দিয়ে হয়রানি করছে।

Comments

comments