পেটে বাচ্চা রেখেই সিজার সমাপ্ত, শিগগিরই ব্যবস্থা

কুমিল্লায় এক প্রসূতির পেটে ছিল জমজ সন্তান। কিন্তু হাসপাতালে ডাক্তার সিজারিয়ান অপারেশন করে জমজ সন্তানের একটি বের করে কিন্তু অপর ছেলে সন্তানটি গর্ভে রেখেই নারীর পেট সেলাই করে দেয়। এ ঘটনায় উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে।

রোববার দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ওই তদন্ত কমিটির রিপোর্ট কুমিল্লা সিভিল সার্জন কার্যালয়ে জমা দেয়া হয়েছে। পরে সিল গালা অবস্থায়ই দুপুরেই তা ঢাকাস্থ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে। বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লা সিভিল সার্জন ডা. মুজিবুর রাহমান।

এদিকে রোববার হাইকোর্টের বিচারপতি সালমা মাসুদ চৌধুরী ও বিচারপতি এ কে এম জহিরুল হকের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ স্বপ্রণোদিত হয়ে আলোচিত সেই কুমিল্লার সিভিল সার্জন ডা. মুজিবুর রাহমান, বহুল আলোচিত সেই ডা. হোসনে আরা বেগম এবং জেলার দাউদকান্দির গৌরীপুর লাইফ হসপিটাল অ্যান্ড ডিজিটাল ডায়াগনোস্টিক সেন্টারের মালিক ও স্থানীয় ব্যবসায়ী মজিবুর রহমানকে হাইকোর্টে তলব করেছেন। এ খবরে নড়েচড়ে বসেছে জেলা ও উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। তড়িঘড়ি করে তদন্ত রিপোর্ট পাঠানো হয় ঢাকায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে।

যেভাবে ঘটেছে ঘটনাটি : গত ১৮ সেপ্টেম্বর জেলার হোমনা উপজেলার দৌলতপুর গ্রামের আউয়াল হোসেনের স্ত্রী খাদিজা আক্তারকে (২২) দাউদকান্দির গৌরীপুর লাইফ হসপিটাল অ্যান্ড ডিজিটাল ডায়াগনোস্টিক সেন্টারে সিজারিয়ান অপারেশন করা হয়। অপারেশনে অংশ নেন দাউদকান্দির বিটেশ্বর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্রে প্রেষণে থাকা মালিগাঁও ২০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের সহকারী সার্জন ডা. হোসনে আরা।

খাদিজা আক্তারের মা আমেনা বেগম জানান, তার মেয়ের গর্ভে ২টি সন্তান থাকলেও সিজারে ১টি সন্তান বের করে অপরটি টিউমার বলে অপারেশন সমাপ্ত করে পেটে বাচ্চা রেখেই সেলাই করে দেন ডা. হোসনে আরাসহ অপারেশন থিয়েটারে থাকা অন্যরা। পরবর্তীতে বাড়িতে যাওয়ার পর দীর্ঘ এক মাস পেটে ব্যথা অনুভব করেন খাদিজা। এ নিয়ে চিকিৎসার জন্য বিভিন্ন ডাক্তারের কাছে যান তিনি। পরে ওই প্রসূতি হোমনা উপজেলা সদরের একটি ক্লিনিকে আলট্রাসনোগ্রাফি করার পর জানতে পারেন তার পেটে টিউমার নয়, আরও একটি মৃত সন্তান রয়েছে।

গত ২৬ অক্টোবর ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের গাইনি বিভাগে অস্ত্রোপচারের পর ছেলে সন্তান অপসারণ করা হয়েছে। ওই হাসপাতালটির সরকারি অনুমোদন না থাকায় গত ২৫ অক্টোবর ভ্রাম্যমাণ আদালত তা সিলগালা করে দেয়। পালিয়ে যায় মালিক পক্ষ।

তদন্ত কমিটি ও রিপোর্ট পেশ : এ ঘটনা তদন্তে গত ২৩ অক্টোবর দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা ডা. মো. জালাল হোসেন ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেন। কমিটির সদস্যরা হলেন, দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জুনিয়র কনসালটেন্ট (গাইনী) ডা. ফরজানা ইসলাম, মালিগাঁও ২০ শয্যা হাসপাতালের জুনিয়র কনসালটেন্ট (সার্জারি) ডা. মো. শরীফ মুশফেকুর রহমান ও দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মো. শাহিনুর আলম সুমন।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা জানান, রোববার তদন্ত রিপোর্ট সিভিল সার্জন অফিসে পাঠানো হয়েছে। বিকেলে কুমিল্লা সিভিল সার্জন ডা. মজিবুর রাহমান জানান, সিলগালা অবস্থায় যে তদন্ত রিপোর্ট হাতে পেয়েছি তা পরবর্তী কার্যক্রমের জন্য ঢাকায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, কোনো ডাক্তারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার এখতিয়ার আমাদের নেই, তাই তদন্ত রিপোর্ট পেয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরই এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন।

Comments

comments