মুরাদনগরে ইউপি চেয়ারম্যান ও যুবদল নেতার বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে বিক্ষোভ

মুরাদনগর উপজেলার ৮নং চাপিতলা ইউনিয়নের নব-নির্বাচিত চেয়ারম্যান ও কুমিল্লা উত্তর জেলা যুবদলের প্রথম যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মামুনুর রশীদ ভূঁইয়া ও তার লোকজনের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে এলাকাবাসীর বিক্ষোভ।

মুরাদনগর ( কুমিল্লার খবর.কম ): কুমিল্লা উত্তর জেলা যুবদলের প্রথম যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও মুরাদনগর উপজেলার ৮নং চাপিতলা ইউনিয়নের নব-নির্বাচিত চেয়ারম্যান মামুনুর রশীদ ভূঁইয়া ও তার লোকজনকে একটি সন্ত্রাসী চক্র কর্তৃক একটার পর একটা মিথ্যা অভিযোগ ও মামলায় জড়িয়ে হয়রানীর প্রতিবাদে মঙ্গলবার সকালে চাপিতলা সুপার মার্কেট প্রাঙ্গনে এলাকার সর্বস্তরের জনসাধারণ বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে।

এতে বক্তারা সন্ত্রাসীদের দ্বারা হয়রানী ও নাজেহালের শিকার নব-নির্বাচিত চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে থানায় বিনাতদন্তে রুজুকৃত মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানান। তখন চেয়ারম্যান মামুনুর রশীদ ভূঁইয়া উপস্থিত সকলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাধে কাধ মিলিয়ে ধৈর্য্য ও সাহসের সাথে তা’ মোকাবেলা করার জন্য সর্বস্তরের জনসাধারণকে অনুরোধ জানিয়েছেন। এ সময় তিনি মিথ্যা অভিযোগকারী সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ ও জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে প্রশাসনের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।


জানা যায়, গত ২ সেপ্টেম্বর শুক্রবার রাতে নব-নির্বাচিত চেয়ারম্যান মামুনুর রশীদ ভূঁইয়া ও তার ভাইয়েরা মোখছেদুর রহমান আবিরের বাড়িতে আগুন লাগিয়ে তার বাবা মাওলানা শহীদুল্লাহ সরকার জেহাদীকে মারধর করেছে বলে পুলিশকে খবর দেয়া হয়। এ খবর পেয়ে ওসি (তদন্ত) ইকবাল হোসেনের নির্দেশে এসআই দেবাশীষের নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে যান এবং অগ্নিকান্ডের কোন আলামত কিংবা তার বাবাকে আঘাত করার কোন প্রকার চি‎‎হ্ন খুঁজে পাননি। তার পরও মোখছেদুর রহমান আবির তার পিতার অসুস্থ্যতাকে পূঁজি করে ডাক্তারী সনদ সংগ্রহের মাধ্যমে তাঁকে ও তার লোকজনকে আসামী বানিয়ে মুরাদনগর থানায় একটি মিথ্যা অভিযোগ দাখিল করেন, যা থানায় বিনাতদন্তে এফআইআরভূক্ত করা হয়।

এদিকে, নবনির্বাচিত চেয়ারম্যানকে এভাবে একটার পর একটা হয়রানীর ঘটনায় এলাকার লোকজন ক্ষুব্ধ হয়ে উঠে এবং তারা বিক্ষোভ প্রদর্শন পূর্বক এ ধরণের ঘটনার তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করে অবিলম্বে উক্ত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের জন্যে প্রশাসনের প্রতি দাবি জানায়। এ ছাড়াও এ ঘটনার রহস্য খুঁজে বের করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।


এ দিকে উক্ত ঘটনার ব্যাপারে মুরাদনগর থানার এস আই নুরুল ইসলাম মঙ্গলবার সকালে সরেজমিন তদন্তে যান। তখন মামলার স্বাক্ষী তপন মিয়াসহ অনেকে জানায় যে, শুক্রবার রাতে শহীদুল্লাহ সরকার জেহাদীকে চাপিতলা মাছ বাজার থেকে উদ্ধার করা হয়। তখন তার শরীরে কোন প্রকার আঘাতের চি‎হ্ন ছিল না। কিন্তুু মামলার এজহারে ঘটনাস্থল বাড়িতে ও শহীদুল্লাহ সরকার জেহাদীর শরীরে আঘাতের চি‎হ্ন আসলো কিভাবে এবং ঘটনার দিন রাতে অভিযুক্ত আসামীরা এলাকায় ছল না, তা’ নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। ফলে এলাকাবাসী বিষয়টিকে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে আরো খতিয়ে দেখার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানান।


কুমিল্লার খবর.কম, ০৭-০৯-২০১১